আমেরিকার কূটনীতির কাছে পরাস্থ হলেন ইমরান খান

পাকিস্তানের কোনো প্রধানমন্ত্রি এর আগে তার ৫ বছরের ক্ষমতার মেয়াদ সম্পন্ন করতে পারেনি। পাকিস্তানে এর আগে ২ বার আস্থা ভোট হয়েছিল। শওকত আজিজ ও বেনজির ভুট্টোর বিরুদ্ধে ওঠা সেই ভোটে তারা দুজনই বেঁচে গিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রি হওয়ার পর তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করবেন। 

সম্প্রতি আস্থা ভোটে হেরে গিয়ে সদ্য প্রধানমন্ত্রীর গদি হারাতে হয়েছে তাঁকে।এই দুটি কাজের একটিও সফলভাবে করতে পারেননি তিনি।

বিরোধীদল ও তার দলের কিছু নেতার কারণে পার্লামেন্টের ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার সময়েই তিনি অভিযোগ করেছিলেন, বিদেশি শক্তির সঙ্গে হাত মিলিয়ে তাঁকে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরানোর চক্রান্ত চলছে।

আমেরিকার কূটনীতির কাছে পরাস্থ হলেন ইমরান খান কিন্তু কেন

সদ্য প্রাক্তন পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান নতুন জোট সরকারকে সরানোর জন্য অবশ্য সেই বিদেশে বসবাসকারী পাকিস্তানিদের কাছে আর্থিক সাহায্য চাইলেন। এক টুইট বার্তায় তিনি জানিয়েছেন, ওই অনুদান যাবে তাঁর দল পিটিআইয়ের তহবিলে এবং সেই অর্থ দিয়ে তিনি বর্তমান দেশের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফকে গদিচ্যুত করবেন বলে দাবি করেছেন ইমরান।

একটি ওয়েবসাইটের নাম ও ঠিকানাও দিয়েছেন ইমরান। যার মাধ্যমে বিদেশে বসবাসকারী যেকোনো পাক নাগরিকেরা চাইলে অর্থ পাঠাতে পারবেন। 

ইমরান খানের জানিয়েছেন যে, আমেরিকা নিজের স্বার্থেই একজন ‘পুতুল প্রধানমন্ত্রী’কে ক্ষমতায় বসিয়েছে। ইউরোপের যুদ্ধে সুবিধা পেতে এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে সমথন আদায়ের জন্য তারা নাকি এমনটা করেছে। পাকিস্তানের মানুষ নিরপেক্ষভাবে কী চাইছেন, তাতে আমেরিকার কিছু আসে যায় না।

আমেরিকা এমন একজনকে প্রধানমন্ত্রী পদে চেয়েছে, যিনি কার্যত মার্কিনিদের বশ্যতা স্বীকার করে চলবে। তাদের কথা মতো রাশিয়ার সঙ্গে কোনও চুক্তি স্বাক্ষর করবেন না এবং চিনের সঙ্গে পাকিস্তানের যে কৌশলগত সুসম্পর্ক তৈরি হয়েছে, তাও নষ্ট করে দেবে।

ইমরান খান দৃঢ় ভাষায় দাবি করেছেন যেজে,নতুন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ (Shahbaz Sharif) আমেরিকার এই সব শর্ত মানতে রাজি হয়েছেন বলেই তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী পদে বসার সুযোগ পেয়েছেন।  

ইমরান অভিযোগ করেছেন যে, বিরোধী দল তার বেশ কয়েকজন সদস্যকে বিলিয়ন বিলিয়ন টাকা খরচ করে কিনে নিয়েছে।

অনেকে বলেছেন, যাদের কেনা হয়েছে তাদের বিপুল ডলার দিয়েছে আমেরিকা, যদিও মার্কিন প্রশাসন এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। মূলত নিজ দলের কিছু মানুষের বিশ্বাসঘাতকতা ইমরান খানের পরাজয়ের জন্য দায়ী।

Leave a Comment