রাশিয়া ইউক্রেন সংকটের কারণ কি? কেন এই যুদ্ধ

রাশিয়া ইউক্রেন সংকটের কারণ কি এই সম্পর্কে আপনারা অনেকেই জানতে আগ্রহী। দীর্ঘ দিন ব্যাপী যুদ্ধ চলছে রাশিয়া ও ইউক্রেন দেশ দুটির মধ্যে। কিন্তু আমাদের মধ্যে অনেকেরই এর সঠিক কারণ এখনো পর্যন্ত অজানা। আজকের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আপনারা রাশিয়া ইউক্রেন সংকটের ইতিহাস সম্পর্কে জানতে পারবেন।

গত ২৪ শে ফেব্রুয়ারি ২০২২ সালে রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে বিশেষ সামরিক অভিযান শুরু করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। সে নির্দেশনা অনুযায়ী ঠিক ঐদিনই  ইউক্রেনের দুটি শহর ও রাজধানী কিয়েভে সহ নানান জায়গায় বিস্ফোরণ ঘটেছিল।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জরুরি অবস্থা জারি করেন এবং সকলকে নিরাপদে স্থানে থাকার পরামর্শ দেন।  রাশিয়া এ পদক্ষেপ যে কোন প্রস্তুত  ইউক্রেন বলে জানান ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট।

অন্যদিকে সম্ভাব্য কোন রক্তপাত যদি হয় তাহলে এর দায় ইউক্রেন সরকার কে বহন করতে হবে বলে জানান রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। 

পুতিন আরো বলেন কেউ যদি রাশিয়ার বিরুদ্ধে কিছু করতে চায় তাহলে এক্ষেত্রে মস্কোর প্রতিক্রিয়া তৎক্ষণাৎ দেখা মিলবে।

রাশিয়া ইউক্রেন সংকটের কারণ কি ও এর ইতিহাস

রাশিয়া ইউক্রেন সংকটের কারণ কি
রাশিয়া ইউক্রেন সংকটের কারণ কি

এ ঘটনার মূল কেন্দ্রবিন্দু কোথায়? আমরা যদি রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের মূল কেন্দ্রবিন্দু (রাশিয়া ইউক্রেন সংকটের কারণ) খুঁজতে যাই তাহলে আমাদেরকে ২০১৪ সালে ফিরে যেতে হবে।

২০১৪ সালের ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভিক্টর  ইয়নোকোবেজ দেশের চলমান সংকটের কারণে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়।

তারপর ইউক্রেনে যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন সে ইউক্রেনকে ইউ ভুক্ত করার জন্য পদক্ষেপ নেয়। এসব পদক্ষেপে ক্ষুব্দ হয় ইউক্রেনের রাশিয়া। 

তাই পশ্চিমা দেশগুলো থেকে পুতিন নিশ্চয়তা চান জাতে ইউক্রেন কোনভাবে ন্যাটোভুক্ত হতে না পারে।

পুতিন মনে করে রাশিয়াকে চারদিক থেকে ঘিরে পশ্চিমা দেশগুলো নাটকে ব্যবহার করার জন্যই এমন পদক্ষেপ নিতে চাইছে।

এবং পশ্চিমা দেশগুলো ইউক্রেনকে এই উদ্দেশ্যে নেটোতে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে বলে মনে করেন পুতিন।

জ্বালানি সমস্যা

রাশিয়া-ইউক্রেন ইস্যুতে আরো একটি বড় বিষয় রয়েছে। 

সে বিষয়টি হলো রাশিয়ার গ্যাস।  ইউরোপের জ্বালানির ২৫% রাশিয়া সরবরাহকৃত জ্বালানি থেকে চাহিদা পূরণ হয়ে থাকে।

ইউরোপের যে গ্যাস পাইপলাইন দ্বারা গ্যাস সরবরাহ করা হয় তার প্রধান গ্যাস লাইন রয়েছে সেগুলো সবই ইউক্রেনের ভিতর দিয়ে গেছে।

যার ফলে ইউক্রেন যদি রাশিয়ার ক্ষমতার বাইরে চলে যায় তাহলে রাশিয়া তাদের ক্ষমতা হারাতে পারে বলে শঙ্কা রয়েছে। 

একুশে ফেব্রুয়ারি 2022 ইউক্রেন ইউক্রেনের Donbas অঞ্চলের Donetsk ও Luhansk এ দুটি শহরকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ঘোষণা দেন রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী পুতিন।

পুতিন সকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে ডানবাসের ও লহানেক্স এই দুইটি অঞ্চলের ইউক্রেন সীমান্তে রাশিয়া প্রায় ২ লক্ষ সেনা ও হাজার হাজার সামরিক যানবাহন মোতায়েন করে।

21 ফেব্রুয়ারি ঘোষণার পরপরই রাশিয়ান সেনাবাহিনী এই দুটি অঞ্চল দিয়ে ইউক্রেনের সামরিক অভিযান শুরু করে।

এর পরপরই যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ অনেক পশ্চিমা দেশ মস্কোর ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়।

এই দুইটি অঞ্চল কে স্বাধীন ঘোষণা করার পর পরই চব্বিশে ফেব্রুয়ারি বিশ্বের সামরিক অভিযান শুরু করার ঘোষণা প্রদান করা হয়।

24 তারিখ সামরিক অভিযান শুরুর পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সরাসরি ফোন করেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট এর কাছে।

তিনি বলেন, পুতিন পূর্বপরিকল্পিত যুদ্ধ বেছে নিয়েছেন। এই যুদ্ধ মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনবে। মৃত্যু ও ধ্বংসযজ্ঞের জন্য রাশিয়া দায়ী থাকবে। এবং তিনি আরো বলেন ইউক্রেনের সকল সহায়তা প্রদান করবেন।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেন, আপনারা হামলা করলে পিঠ নয়, বরং আমাদের মুখী দেখতে পাবেন।

২৪ তারিখের প্রথম সে হামলায় ৭ জন নিহত এবং ১৯ জন নিখোঁজ বলে জানিয়েছিলেন ইউক্রেন পুলিশ।

ইউক্রেনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আতঙ্কিত রয়েছে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ শহরটি।

এছাড়াও কিয়েভ শহর থেকে সেখানে বাসিন্দারা সরে যাচ্ছে। ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়েছিল হাজার হাজার গাড়ি এবং ট্যাক্সি এর ছবি। অনেকেই হামলা থেকে বাঁচার জন্য নিজ বাসায় বেজমেন্টে ছিলেন।

তখন এতটাই সংকট দেখা দিয়েছিল যে মানুষের ভিড় জরুরি খাবার এবং বুথের সামনে টাকা তোলার জন্য ভিড় জমে গিয়েছিল।

এ বিষয়ে জরুরী সভা জাতিসংঘ ডেকেছিল তাতে কোনো লাভ হয়নি। 

অর্থনৈতিক দিক দিয়ে রাশিয়া-ইউক্রেন হামলার কারণ

রাশিয়া ইউক্রেন সংকটের কারণ আলোচনা করলে আমরা কিছু আদর্শিক ও রাজনৈতিক কিছু যুক্তিসঙ্গত কারণ রয়েছে রাশিয়ার ইউক্রেনে হামলার পেছনে সেইসাথে এই সংকটের পেছনে অর্থনৈতিক দিক রয়েছে।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন চান ইউক্রেন ন্যাটো জোট ভুক্ত হওয়া বাদ দিয়ে ২০০০ সালে চালু হওয়া মস্কো নিয়ন্ত্রিত মুক্তবাণিজ্য জোটে যোগ দিক ইউক্রেন সরকার।

মাত্র ৪ কোটি ৩০ লাখ জনসংখ্যার দেশ ইউক্রেন কৃষি, শিল্প ও খাদ্য উৎপাদনে বেশ এগিয়ে রয়েছে।

ইএইসিতে যোগ দেওয়া  ও শক্তিশালী সদস্য দেশ হওয়ার সক্ষমতা রয়েছে ইউক্রেনের। তবে এই জোটে যোগ দেওয়ার বিষয়টি বরাবরই অস্বীকার করা করে আসছেন কিয়েভ প্রশাসন। 

মূলত ভৌগোলিক এবং ভূ-রাজনৈতিক কিছু জটিল সমীকরণ নিয়ে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ সংঘটিত হচ্ছে। তবে উপলক্ষে যাই হোক না কেন আমরা কখনই যুদ্ধ চাই না শান্তি চাই। 

আশা করি আপনি রাশিয়া ইউক্রেন সংকটের কারণ সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ।

Leave a Comment