নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের অবিশ্বাস্য টেস্ট সিরিজ জয়

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশের অবিশ্বাস্য টেস্ট সিরিজ জয় সত্যি অবিশ্বাস্য একেবারে অবিশ্বাস্য যা বিশ্বাস করা যায় না। কল্পনা তো দূরের কথা আমরা ভুলেও ভাবিনি বাংলাদেশ নিউজিল্যান্ডের মাটিতে নিউজিল্যান্ডেকে টেস্ট ম্যাচে পরাজিত করবে। তবে এই অবিশ্বাস্য শব্দটি এখন আমাদের বিশ্বাস করতে বাধ্য করেছে আমাদের ক্রিকেটাররা, কেননা আজ 5 ই জানুয়ারি 2022 সালের প্রথম প্রহরেই তারা নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে দেশের টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসে একটি সোনালি দিনের সূচনা করেছে।

সেইসাথে 2022 সালের 5 ই জানুয়ারি সকালটা বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে নিউজিল্যান্ডকে হারানোর দিন হিসাবে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ৮ উইকেটে জয় সত্যিই বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন।

নিউজিল্যান্ডে বিপক্ষে বাংলাদেশের টেস্ট সিরিজ জয়

নিউজিল্যান্ডের সাথে বাংলাদেশের জয়কে অবিশ্বাস্য ও অকল্পনীয় যা কিছুই বলে সম্বোধন করা হোক তাই কম।  বাংলাদেশের ওয়ার্ল্ড কাপের পারফরম্যান্স এবং সেইসাথে পাকিস্তানের সাথে ঘরের মাটিতে টি-টোয়েন্টি ও টেস্ট ম্যাচের ভরাডুবির পর নিউজিল্যান্ডের মাটিতে নিউজিল্যান্ডকে হারানো মোটেই সম্ভব ছিল না বলে অনেকেই মনে করেছি।

কিন্তু আমাদের ১১ ক্রিকেটার বাংলাদেশের  স্বাধীনতার ৫০ বছর উপলক্ষে আমাদেরকে আরো একটি উপলক্ষ এনে দিয়েছে বিদেশের মাটিতে নিজেদের পরিচয় করানোর মতো একটি শব্দ জয় দিয়ে।

সেটা আমরা সকলেই জানি বাংলাদেশের ক্রিকেটে ট্যালেন্ট এর অভাব নেই, তবে সঠিকভাবে প্রয়োগ না করার কারণে আমরা ক্রিকেটে অনেক পিছিয়ে রয়েছি।

দীর্ঘ ২০ বছরের টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসে আমাদের সেরা জয় টি এসেছে হচ্ছে ২০ বছর পরে এসে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে নিউজিল্যান্ডকে হারানোর মাধ্যমে।

ঘরের মাটিতে আমরা অনেক বড় বড় দলকে হারিয়েছি কিন্তু বিদেশের মাটিতে সদ্য শেষে হওয়া টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ বিজয়ী নিউজিল্যান্ডকে হারানো বাংলাদেশ ক্রিকেট ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য এটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল, এই জয়ে সাধুবাদ জানিয়েছেন আমাদের দেশের প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি।

সেইসাথে এই জয়ের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে আমাদের ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে, একটা টেস্ট ক্রিকেট জয় বিদেশের মাটিতে যা অনেকদিন থেকেই পাওয়া যাচ্ছিল না।

অনেক ক্রিকেটপ্রেমী নিউজিল্যান্ডের সাথে বাংলাদেশের টিম কম্বিনেশন নিয়েও টেস্ট শুরুর দিনে সমালোচনা করেছিলেন। আবু সায়ীদকে বাদ দিয়ে ইবাদত হোসেন কে টেস্ট দলে অন্তর্ভুক্ত করায় অনেকেই তাদের মন্তব্যে বিরক্তি প্রকাশ করেছেন।

সমালোচনা যাই থাকুক না কেন ইবাদত হোসেন প্রমাণ করেছেন তিনিও পারেন। ইবাদত সাক্ষাৎকারে  বলেছেন তিনি দেশের ক্রিকেটে ও বিমান বাহিনীকে রিপ্রেজেন্ট করতে চান বাংলাদেশের হয়ে যা তার কাছে ভালো লাগে।

দুর্দান্ত একটি ক্রিকেট ম্যাচ উপহার দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ টিমকে ধন্যবাদ সেই সাথে এই নতুন টাইগার কে সাদর আমন্ত্রণ আপনি ভালো খেলে বাংলাদেশ ক্রিকেটকে আরো দূর এগিয়ে নিয়ে যাবেন এই প্রত্যাশাই দেশবাসী করে।

সম্প্রতিক সময়ে লক্ষ্য করলে দেখতে পাবেন সাকিব-তামিম এবং মাহমুদুল্লাহ কে ছাড়া বাংলাদেশ টেস্ট দলকে অনেকটাই মলিন মনে হচ্ছে, বেমানান মনে হচ্ছে টেস্ট ক্রিকেটে।

সেই ক্রিকেট দলটি পঞ্চপান্ডবের চারজন ব্যতীত কিভাবে একটি ইতিহাস রচনা করেছে তার সাক্ষী হয়ে থাকলাম আমরা।

ওরা ১১ জন বাংলাদেশের প্রতিনিধি বাংলাদেশের জার্সি গায়ে যে ক্রিকেটারই খেলুক না কেন তারা হবে বাংলার ঐতিহ্য।

আমরা আশা করি বাংলাদেশে সামনের দিনগুলোতে আরো উন্নত করবে। ক্রিকেটকে ও ক্রিকেটের পরিবেশকে বাংলাদেশ আরো বেশি ক্রিকেটার বান্ধব করবে এই প্রত্যাশায় আমাদের সামনের দিনগুলি।

আশা করি বাংলাদেশের ক্রিকেট-সংশ্লিষ্টদের বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের আরো বেশি যত্ন নিবেন এবং নতুনদের কখনোই ছুড়ে ফেলে দিবেন না।

অনেক নতুন ক্রিকেটারকে আমরা গত ১০ বছরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছি তাদের মধ্যে বেশিরভাগ ক্রিকেটারই আমাদের ক্রিকেট থেকে দূরে সরে গেছেন।

আমার মনে হয় ক্রিকেট-সংশ্লিষ্টদের নতুনদের প্রতি আরো বেশি যত্ন নিলে আমরা আরো বেশি বেশি জয় আসতো দেশের ক্রিকেটে এবং দেশে ক্রিকেটের গৌরবময় অনেকে নিজেদের পক্ষে নিয়ে আসতে পারতাম।

ধন্যবাদ টিম বাংলাদেশ চমৎকার একটি উপহার দেওয়ার জন্য। তোমাদের সবাইকে শুভেচ্ছা ভালো থেকো।

Leave a Comment