নারী ফুটবলে বাংলাদেশের সাফল্য, রাজকীয় সংবর্ধনা পেলো নারীরা

নারী ফুটবলে বাংলাদেশের সাফল্য ও তদের অর্জিত সাফ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়ন ২০২২ হিসাবে ট্রফি দেশের মানুষকে আনন্দের উপলক্ষ করে দিয়েছে। বাংলাদেশের একসময়ের জনপ্রিয় খেলা ক্রিকেট ফুটবল নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে উচ্ছাস উন্মাদনা বর্তমান সময়ে চলমান ক্রিকেটের থেকে অনেক বেশি ছিল। কিন্তু কালের বিবর্তনে বাংলাদেশের ফুটবল তাদের ঐতিহ্য হারিয়েছে, সেই জায়গাটুকুও ধরে নিয়েছে ক্রিকেট প্রেমীরা।

যদি মনে করা হয় যে নারী ফুটবল দলের অগ্রযাত্রা কবে থেকে। যেখানে বাংলাদেশ পুরুষ ফুটবলেই ক্রমাগত পিছিয়ে পড়ছে সেখানে নারী ফুটবল দলের অগ্রগতি সম্পর্কে বলা বিলাসিতায় হয়ে পড়বে।

 তবে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের পথ চলা ১৯৯০ এর দশকের শুরু হলেও একবিংশ শতাব্দীতে এসে কিছুটা আলোর মুখ দেখে এবং বাংলাদেশের নারী ফুটবল দল আন্তর্জাতিক ফুটবলে প্রবেশ করে।

শুরুতে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের পথ চলা খুব সহজ ছিল না নানা বাধা বিপত্তি পেরিয়ে আজকের মত জায়গায় পৌঁছেছে বাংলাদেশের নারী ফুটবল।  

বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের সাফল্যের কথা বলতে গিয়ে সাবেক যারা বাংলাদেশ ফুটবল নারী ফুটবল দলের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন তারা তাদের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা কয়েকবার জানিয়েছেন।

তারা বলেছেন কিভাবে প্রতিকূলতা জয় করে বাংলাদেশ নারী ফুটবল আজকের এই পর্যায়ে পৌঁছেছে। 

নারী ফুটবলে বাংলাদেশের সাফল্য

একটা সময় ছিল বাংলাদেশ নারী ফুটবল নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা মোটেই ভাল ছিলনা,  কেননা মৌলবাদীদের নানা হুমকিতে স্পন্সরও আসতে চাইতো না ফুটবল দলের জন্য।

২০০৩–০৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের নারী ফুটবল দলের সঙ্গে কাজ করা খুব কাছের একজন হচ্ছেন কামরুন নাহার ডানা। 

তিনি বলেন মৌলবাদীদের ভয়ে কর্পোরেট কোম্পানি নারী ফুটবল দলকে স্পন্সর করতেও ভয় পেত তখন, কেননা তারা মনে করত মৌলবাদীদের রেসানলে পরার আশংকা কিছুতেই উড়িয়ে দেয়া যায় না।

এমন একটি অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছিলাম বাংলাদেশের নামি একটি কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান স্পন্সর খুঁজতে গিয়ে, তারা বাফুফের বড় কর্তাদের মুখের উপর নারী ফুটবল দলকে স্পন্সর করতে পারবেনা বলে দেয় মৌলবাদীদের ভয়ে।

নারী ফুটবল সেই ভয় কে জয় করার জন্য ২০০৪ সালে ঢাকায় বাফুফের উদ্যোগে মেয়েদের প্রথম টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের সাথে কাজ করা কামরুন নাহার ডানা বলেন মৌলবাদীদের মিটিং-মিছিল ও তাদের হুমকি উপেক্ষা করে বাংলাদেশের ফুটবলকে নিয়ে কাজ করে গেছি আমরা।

আর সেই ফুটবল দলই এখন আজ দক্ষিণ এশিয়ার সেরা, এটা ভাবতেই ভালো লাগছে যা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। 

দক্ষিণ এশিয়ার সেরা নারী ফুটবল দল হিসেবে বাংলাদেশের নারীরা যে সাফল্য নিয়ে এসেছে তা ভাষায় প্রকাশ করা মোটেই সম্ভব নয়।

অনেকেই মনে করেন বাংলাদেশের নারী ফুটবলের ঐতিহ্য ফিরে পেতে নারীদের এই এশিয়া চ্যাম্পিয়ন হবার আনন্দ উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়বে সমগ্র ফুটবল পাড়ায়।

সেইসাথে বাংলাদেশ দিনে দিনে সুবিধাবঞ্চিত ফুটবল দল গুলো আরো বেশি স্পন্সার পাবে এবং ফুটবল একদিন বাংলাদেশ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করবে এমন প্রত্যাশা আমরা করতেই পারি।

নারী ফুটবলে বাংলাদেশের সাফল্য এত চোখে পড়ার মতো যে বাংলাদেশ ফুটবল ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বড় ট্রফি। 

রাজকীয় সংবর্ধনা পেলো নারীরা

বাংলাদেশের নারী ফুটবলে এ বিশেষ অর্জন কে স্মরণীয় করে রাখতে নারীদের স্মরণীয় করে রাখতেই নারীদের জন্য বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন বাফুফের সংবর্ধনা আয়োজন করেছে।

লাখো জনতা বিমানবন্দরে ভিড় জমিয়েছে নারী ফুটবলারদের দেখার জন্য। তাদের জন্য অপেক্ষা করছেন বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন, তাদেরকে বরণ করে নেবেন বাফুফে ভবনে।

বাংলাদেশের ফুটবল প্রেমি লাক্ষো সাধারণ মানুষকে রাস্তার দুই ধারে অপেক্ষা করছে নারী ফুটবলারদের অভ্যর্থনা জানাতে।

এবার বাংলাদেশের নারী ফুটবলারদের অসাধারণ খেলায় মুগ্ধ, এবং তারা দেশবাসীকে সাফ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়ন ২০২২ হিসাবে ট্রফি নিয়ে এসেছে।

রাজনীতি কিভাবে করতে হয়? রাজনীতিক হতে হলে করনীয় জানুন

একথা বলাই যায় দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশের নারীরা কিন্তু এখন সবার সেরা।

নারীরা যেখান থেকে ফুটবলের যাত্রা শুরু করেছিলো, যে অবস্থায় তারা ফুটবল খেলেছিল, সেই পথ কিন্তু অনেক পুরনো এবং তাদের সংগ্রামমুখর জীবন পাড়ি দিতে হয়েছে এবং এই নারীরা কিন্তু প্রত্যন্ত এলাকা থেকে উঠে এসে সাফ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়ন ২০২২ করেছে।

তাদের সংগ্রাম তাদের আস্থা এবং তাদের প্রতিদিন বিশ্বাস করে আজ বাংলার সাধারণ মানুষ রাস্তায় তাদের অভ্যর্থনা জানতে হাজির।

তারা জয় করেছে ১৮ কোটি মানুষের হৃদয়, এনেছে সাফ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়ন ২০২২, খেলা পাগল ১৮ কোটি মানুষকে আনন্দ দেওয়ার জন্য।

দেশ থেকে জাবার সময় বলে গেয়েছে তারা একটি সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয় করতে চান এবং সেটি তারা নেপালের মাঠে শত শত দর্শকদের সামনে, তাদের দর্শক ভর্তি স্টেডিয়ামে চ্যাম্পিয়নশিপ অর্জন করেছেন

তাদের ভালো খেলার ফলে ২০২২ দক্ষিণ এশিয়ার নতুন চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল। বাংলাদেশের মাথা উচু করেছে নারীরা আরও একবার সাফ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়ন ২০২২ জয় করার মাধ্যমে।

উপসংহার ,

আশা করি আপনি বুঝতে পেরেছেন নারী ফুটবলে বাংলাদেশের সাফল্য ধরে অন্যান্য বয়সভিত্তিক ফুটবল ও জাতীয় ফুটবল দল টি উদযাপিত হবে এবং ফুটবলে বাংলাদেশের সোনালী যুগ ফিরে আসবে।

আমরা চাই টিকেটের পাশাপাশি বাংলাদেশের ফুটবল বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের মনে জায়গা করে নিক।

Leave a Comment