ফ্রিল্যান্সিং করে যে কাজে বেশি টাকা আয় করতে পারবেন

সুপ্রিয় পাঠকবৃন্দ ফ্রিল্যান্সিং করে যে কাজে বেশি টাকা আয় করতে পারবেন সেগুলো আপনাদের অনেকেরই জানা নেই। অর্থাৎ আমরা বুঝাতে চাচ্ছি যে আপনাদের অনেকেরই জানা নেই কোন কাজগুলো থেকে আপনারা টাকা আয় করতে পারবেন কিংবা বর্তমান সময়ে সবচেয়ে দামি কাজ কোনগুলো। 

আজকের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আমি আপনাদেরকে ফ্রিল্যান্সিং এর কোন কাজগুলো আপনারা করতে পারেন এবং ফ্রিল্যান্সিং এর কোন কাজে সবচেয়ে বেশি টাকা আপনারা আয় করতে পারবেন সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করব। 

অবশ্যই এই আর্টিকেলের শেষ পর্যন্ত পড়লে আপনারা ফ্রিল্যান্সিং করে যে কাজে বেশি টাকা আয় করতে পারবেন পুরো বিষয়টি সম্পূর্ণ বুঝতে পারবেন।

ফ্রিল্যান্সিং এর কোন কাজগুলো সবচেয়ে বেশি দামি

ফ্রিল্যান্সিং করে যে কাজে বেশি টাকা আয় করতে পারবেন
ফ্রিল্যান্সিং করে যে কাজে বেশি টাকা আয় করতে পারবেন

বর্তমান সময়ে টি অজানা নয় যে ফ্রিল্যান্সিং এর মাধ্যমে অনেকেই নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়।  

ফ্রিল্যান্সিং এমন একটি প্লাটফর্ম যেখানে আপনি অনায়াসে টাকা ইনকাম করতে পারেন। তবে টাকা ইনকাম করার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ জিনিস অবশ্যই আপনার মাথায় রাখতে হবে। একজন ফ্রিল্যান্সারের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হচ্ছে ধৈর্য ধরা।  

আপনি যদি ধৈর্য ধরতে পারেন তাহলে একদিন না একদিন আপনি ঠিকই নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারবেন।  

ন্যাটো কি? ন্যাটো জোট কি?

ওয়েব ডেভেলপমেন্ট কি? ওয়েব ডেভেলপমেন্ট ও ডেভেলপারের মধ্যে পার্থক্য

আপনার জন্য কোন কাজগুলো সবচেয়ে ভালো হবে সে সকল কাজ গুলোর মধ্যে থেকে আজকে এই আর্টিকেলে পাঁচটি কাজ আপনাদের সামনে উল্লেখ করা হবে।  

আপনারা চাইলে এসকল কাজগুলো করতে পারেন এবং বর্তমান সময়ে সকল কাজগুলোতে সবচেয়ে বেশি টাকা আয় করা সম্ভব। 

চলুন দেখে নেয়া যাক সে কাজ গুলো শিখে আপনি অন লাইনে বেশি টাকা ইনকাম করতে পারবেন –

ফ্রিল্যান্সিং করে যে কাজে বেশি টাকা আয় করতে পারবেন

  • কপিরাইটার।
  • সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার/ওয়েব ডেভেলপার।
  • ডিজিটাল মার্কেটিং পরামর্শদাতা।
  • সামাজিক মাধ্যম ব্যবস্থাপক/ social mideo manager
  • এসইও বিশেষজ্ঞ।

আজকের এই আর্টিকেলে আমরা এই সকল কাজ গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।

কপি রাইটার 

আপনি যদি একজন ফ্রিল্যান্সার হয়ে ওঠেন তাহলে এটি হলো সবচেয়ে দ্রুততম এবং সহজ উপায়ে আপনার ফ্রিল্যান্সিং ক্যারিয়ার শুরু করার। 

এবং আপনার যখন আকাঙ্ক্ষা থাকবে যে আপনি অনেক টাকা আয় করবেন তখন কপিরাইটিং শেখা একটি ভালো উদ্যোগ। যদিও কপিরাইটারের বিভিন্ন ধরনের কাজ রয়েছে। কিন্তু সরাসরি প্রতিক্রিয়ার মাধ্যমে কপিরাইটের সর্বোচ্চ সম্ভাব্য আয় রয়েছে।

ফ্রীল্যান্স কপিরাইটার মূলত বিপণন সামগ্রী যে সকল লেখা রয়েছে সে সকল লেখার ওপর নিজেদের ফোকাস রাখে। যেমন, ইমেইল, অনলাইন পণ্য বিক্রয় পৃষ্ঠা (landing page),  ভিডিও ক্লিপ বিক্রয় এবং আরও অনেক কিছু। 

আপনি একজন পাঠক হিসেবে নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিয়ে সকল বিষয়গুলো ডিজাইন করবেন। যেহেতু আপনার লেখা শব্দগুলোর সাথে কোম্পানি কত টাকা আয় করছে সে সংক্রান্ত একটি সম্পর্ক রয়েছে, তাই আপনি যত ভালো লিখবেন কোম্পানি আপনাকে ততবেশি টাকা দিতে ইচ্ছা প্রকাশ করবে।

হিটলার কোন দেশের অধিবাসী ছিলেন?

আপনি এভাবে আপনার কপিরাইট ফ্রিল্যান্সিং চালিয়ে গেলে আপনি সেরা পেইড ফ্রিল্যান্সার হওয়ার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সাথে এধরনের অনেক কপিরাইট রাইটার বর্তমান সময়ে প্রতিবছর হাজার হাজার ডলার উপার্জন করছে।

সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার/ওয়েব ডেভেলপার

বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং হচ্ছে সবচেয়ে বেশি অর্থ প্রদানকারী ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ গুলোর মধ্যে একটি।  যেখানে যারা সবচেয়ে ভালো কাজ করে থাকেন তারা প্রতি ঘন্টায় কমপক্ষে 200 ডলার বা তার বেশি উপার্জন করে থাকেন।

আপনি চাইলে নিজের ক্যারিয়ার হিসেবে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বেছে নিতে পারেন,  আপনি ওয়েব ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট নিতে পারেন,  আপনি চাইলে মোবাইল অ্যাপ তৈরি করতে পারেন,  গেম তৈরি করতে পারেন এবং আরো অনেক কিছুই আপনি তৈরি করতে পারবেন।

যেকোনো বড় কিংবা ছোট কোম্পানিগুলোর জন্য সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।  অনলাইন প্লাটফর্মে কাজ যত বড় হতে থাকবে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারদের চাহিদা ততই বৃদ্ধি পেতে থাকবে।

আপনি এই কাজটি করার জন্য চার বছরের কম্পিউটার সাইন্স ডিগ্রী করতে পারেন। ফ্রীল্যান্সডেভেলাপার হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করার জন্য তারাই আপনাকে দীর্ঘমেয়াদী দক্ষতা প্রদান করবে।

ডিজিটাল মার্কেটিং পরামর্শদাতা 

ফ্রিল্যান্সিং এর অন্যতম আরেকটি ক্ষেত্র হচ্ছে ডিজিটাল মার্কেটিং। ডিজিটাল মার্কেটিং খুবই বর্ধনশীল ক্ষেত্র যা একজন ফ্রিল্যান্সারকে খুবই ভালো আয় দিয়ে থাকে।

আপনি যদি এই মাধ্যমের কাজগুলো সহজ নিয়ম গুলো খুব সহজে তাড়াতাড়ি শিখে যেতে পারেন তাহলে আপনি এক্ষেত্রে থেকে নিজের ক্যারিয়ারকে একটি ভালো জায়গায় নিয়ে যেতে পারবেন।

ফ্রিল্যান্সিংয়ের কাজ গুলোর মধ্যে ডিজিটাল মার্কেটিং খুবই জনপ্রিয়। আপনাদের জন্য এই কাজটি অসাধারণ সূচনা বয়ে আনবে যদি আপনারা এ কাজটি শুরু করেন।

উদাহরণস্বরূপ, এখানে ডিজিটাল মার্কেটিং এর মধ্যে পড়ে এমন অনেকগুলি ক্ষেত্র রয়েছে:

যেমন- 

  • ইমেল বিপণন
  • ওয়েবসাইট রূপান্তর হার অপ্টিমাইজেশান
  • বিক্রয় পৃষ্ঠা এবং বিক্রয় ভিডিও
  • সামাজিক মাধ্যম
  • লিঙ্কডইন লিড জেনারেশন

অনলাইন মাধ্যম গুলোর মধ্যে ডিজিটাল মার্কেটিং বহুল জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং পেশা। কেননা ধীরে ধীরে সকল কিছুই অনলাইন ভিত্তিক হচ্ছে। 

ডিজিটালাইজেশনের যুগে অনলাইন ভিত্তিক প্রতিটি ওয়েবসাইটের রক্ষণাবেক্ষণ ও সিকিউরিটির জন্য ওয়েব ডিজাইনার, সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার থেকে শুরু করে SEO স্পেশালিস্ট এর প্রয়োজন হয়ে থাকে।

সেইসাথে এই ওয়েবসাইটগুলোতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক সেলস ম্যানেজার প্রয়োজন রয়েছে। 

তাই আপনি যদি ডিজিটাল মার্কেটিং সম্পর্কে সঠিক ধারণা নিতে চান তবে অবশ্যই আপনাকে এ বিষয়ে কিছুদিন স্টাডি করতে হবে, ইউটিউব, BLOG বা বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম গুলো ভিজিট করে। 

সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার কি?

সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার
সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার

সাম্প্রতিক সময়ে অনলাইনে সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং আলোচিত ফ্রিল্যান্সিং পেশা হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার। 

বর্তমানে উন্নত বিশ্বে সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করে বড় বড় কোম্পানি ও ব্যবসায়ীরা তাদের পণ্যের প্রচার প্রচারণা চালিয়ে থাকেন। 

এজন্য তারা তাদের সোশ্যাল মিডিয়া একাউন্ট গুলোতে বিভিন্ন ভিডিও, অডিও, ইমেজ, টেক্সট প্রতিনিয়ত পাবলিস্ট করে থাকেন। 

তাদের হাতে এতটা সময় থাকে না যে তারা একটি গুড লুকিং ও ইউজার থেকে ভালো রিয়েক্ট পাওয়া পোস্টার-ব্যানার বা ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করার মত সময় ব্যয় করেন।

তাই তারা তাদের সোশ্যাল মিডিয়া গুলো হ্যান্ডেল করার জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার নিয়োগ দিয়ে থাকেন। যতই দিন যাচ্ছে ততই এই ক্ষেত্রে কাজের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

শুধু ব্যবসায়ীরা নয় বিভিন্ন বিভিন্ন সেলিব্রিটি ও তাদের সময় বাঁচানোর জন্য সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার নিয়োগ দিয়ে থাকে। 

ইনস্টাগ্রাম মানে কি? ইনস্টাগ্রাম থেকে টাকা ইনকাম

এসইও (SEO) সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন করে টাকা ইনকাম 

বর্তমানে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন ছাড়া কোন ওয়েবসাইট গুগলের প্রথম পেজে রং করা অনেক কষ্টকর কেননা যতদিন যাচ্ছে প্রতিযোগিতা বাড়ছে। 

অনলাইন এবং অফলাইন উভয় মার্কেটপ্লেসগুলোতে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রতিযোগিতা লক্ষণীয় তাই ব্যবসায়ীকে তার ওয়েবসাইট গুগলের প্রথম পেজে নিয়ে আসার জন্য এসইও করতে হয়।

একজন এসইও স্পেশালিস্ট হলে আপনি মাসে কয়েক লক্ষ টাকা আয় করতে পারবেন। এটা আমার মুখের কথা নয়, আপনি চাইলে ইন্টারনেটে বিভিন্ন ব্লগ বা ওয়েবসাইট গুলো ভিজিট করে এ সম্পর্কিত আর্টিকেল পড়তে পারেন।

কিভাবে একটি ওয়েবসাইট এর অন পেজ এসইও করতে হয়, গুগলের প্রথম পাতায় রেঙ্ক করতে হয়। ওয়েবপেজ রেংকিং এর জন্য কি কি করনীয়, ব্যাকলিংক কিভাবে তৈরি করতে হয় এইসব বিষয়গুলি একজন SEO ম্যানেজার হ্যান্ডেল করে থাকেন।

ফ্রিল্যান্সিং করে যে কাজে বেশি টাকা আয় করতে পারবেন?

উপরে উল্লেখিত ৫ টির মধ্যে ফ্রিল্যান্সিং করে যে কাজে বেশি টাকা আয় করতে পারবেন তা আমারা বলেছি।

উপসংহার

আশা করি ফ্রিল্যান্সিং করে যে কাজে বেশি টাকা আয় করতে পারবেন এই সম্পর্কে আমাদের জানানো পাঁচটি বিষয় সম্পর্কে আপনি সঠিক ধারণা নিতে পেরেছেন।

মনে রাখবেন কোন কাজই ছোট নয়, আপনি যদি সঠিকভাবে শিখতে পারেন তবে ওই কাজ থেকে অবশ্যই আপনি টাকা আয় করতে পারবেন। 

বর্তমানে জনপ্রিয় এই 5 টি ক্যাটাগরির ছাড়াও আরো ক্যাটাগরি রয়েছে যেগুলোতে কাজ করে আপনি অনলাইন থেকে টাকা আয় করতে পারবেন।

তবে আপনি যে ক্যাটাগরিতেই কাজ করেন না কেন আপনার একাগ্রতায় আপনাকে ভালো কিছু শিখাবে। 

এ জন্য আপনাদেরকে খুব বেশি চিন্তিত হতে হবে না শুধুমাত্র আপনারা সঠিক নিয়মে কাজ শিখুন এবং কাজ করুন।

ফ্রিল্যান্সিং করে যে কাজে বেশি টাকা আয় করতে পারবেন এ সম্পর্কে আপনার আরো কিছু জানার থাকলে আমাদের কমেন্ট করে জানান। 

ইন্টারনেট থেকে টাকা আয় সম্পর্কে নতুন আপডেট পেতে জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। 

Leave a Comment